বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

গেজেট প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি কিশোরদের ক্ষতি করছে? এই প্রশ্নই এখন আদালতে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার। আসামির তালিকায় আছে মেটা ও ইউটিউব। অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

মামলাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী। আদালতে তিনি কেজিএম নামে পরিচিত। মামলায় আছেন তার মা ক্যারেন গ্লেনও।

তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তি তৈরি করে। অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। বারবার নোটিফিকেশন আসে। ফিডের শেষ নেই। একটি ভিডিও শেষ না হতেই আরেকটি শুরু।

অভিযোগে বলা হয়, এসব কারণে ওই তরুণীর মানসিক অবস্থা খারাপ হয়। তিনি হতাশায় ভোগেন।

এই মামলায় শুরুতে ছিল আরও দুটি প্রতিষ্ঠান- টিকটক ও স্ন্যাপ। তবে বিচার শুরুর আগেই তারা আলাদা সমঝোতায় গেছে। ফলে এখন আদালতে মুখোমুখি মেটা ও ইউটিউব।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সমস্যা শুধু কনটেন্ট নয়। সমস্যা প্ল্যাটফর্মের নকশায়। ব্যবহারকারী যেন বারবার ফিরে আসে— সেইভাবে তৈরি সিস্টেম। কিশোররা এতে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিং বাড়ে। শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা তৈরি হয়। অচেনা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

এ ধরনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আরও প্রায় দেড় হাজার মামলা বিচারাধীন। কেজিএমের মামলাকে ধরা হচ্ছে দৃষ্টান্তমূলক মামলা হিসেবে। এর রায় ভবিষ্যতের অনেক মামলার পথ ঠিক করতে পারে। বিচারে প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানগুলো। মেটা বলছে, তারা কিশোরদের জন্য আলাদা নিরাপদ অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। সেখানে গোপনীয়তা সুরক্ষা বেশি। অভিভাবকদের জন্য নজরদারি টুলও আছে।

ইউটিউব জানিয়েছে, তারা সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ দিয়েছে। কম বয়সী ব্যবহারকারী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, এসব যথেষ্ট নয়। কারণ মূল নকশাই মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি। সেখানেই ঝুঁকির শুরু।

এই মামলার রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে প্রযুক্তি খাতে। ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে কোম্পানিগুলোকে। নকশা ও নীতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন